তিন কোটি টাকার বিয়ে, ১০০ ভরি সোনার গয়না—তবুও অকালে ঝরে গেল নববধূর প্রাণ!

তিন কোটি টাকার বিয়ে, ১০০ ভরি সোনার গয়না—তবুও অকালে ঝরে গেল নববধূর প্রাণ!

কোটি টাকার যৌতুক না পেয়েই কি প্রাণ গেল নববধূর?

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে এক তরুণী আইনজীবীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর জুন মাসে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন বিচার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মৃতার পরিবার। অভিযোগ, ৩ কোটি টাকা খরচ করে ধুমধাম করে বিয়ে এবং প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার দেওয়ার পরেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোভের বলি হতে হয়েছে ওই তরুণীকে।

তিন মাস আগে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা কবিতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর চিকিৎসক মেজর ওম নাগার্জুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপহার হিসেবে দামি গাড়ি এবং ব্যবসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। সম্প্রতি ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়, যা পূরণ করতে অস্বীকার করায় তরুণীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

রহস্যময় মৃত্যু ও পুলিশের নীরবতা

বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় জবলপুরের আর্মি কোয়ার্টারে বাথরুম থেকে কবিতার অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ হলেও তাকে নিতে তিন ঘণ্টা সময় নেওয়া হয়, যা ঘিরে চরম সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটিকে হার্ট অ্যাটাক বলে দাবি করলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় থানা এফআইআর দায়ের করতে গড়িমসি করায় নিহতের বাবা জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

অতীতের অশুভ ইঙ্গিত

মেজর নাগার্জুনের অতীত আচরণও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এর আগে ২০২৪ সালে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে তার বাগদান ভেঙে যায় কেবল অতিরিক্ত যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায়। একজন দায়িত্বশীল সেনা চিকিৎসক হয়েও বারবার যৌতুক প্রথার এই জঘন্য রূপ ধারণ করা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপে পুলিশ এখন নোটিশ জারি করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে আছে শোকসন্তপ্ত পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *