মধ্যরাতের নাটকীয় লড়াইয়ে পিছু হটল বুলডোজার, যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ রুখে দিল বামেরা!

মধ্যরাতের নাটকীয় লড়াইয়ে পিছু হটল বুলডোজার, যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ রুখে দিল বামেরা!

যাদবপুর রেল স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। শিয়ালদা বা দমদমের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে স্টেশন চত্বরে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক বাম কর্মী-সমর্থক। সিপিআইএম (CPIM) নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা জোরালো অবস্থান ও আইনি যুক্তির মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় রেল প্রশাসন ও পুলিশের বুলডোজার। ফলে উচ্ছেদের আতঙ্ক কাটিয়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্টেশন চত্বরের কয়েকশো হকার।

উচ্ছেদের তৎপরতা ও মধ্যরাতের প্রতিরোধ

মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই যাদবপুর স্টেশনের বাইরে বেশ কয়েকটি পেল্লায় বুলডোজার এসে হাজির হলে হকারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই হকারদের রুজি-রুটি বাঁচাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাম কর্মীরা। পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই উচ্ছেদ করা যাবে না—এই দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে শুরু হয় বিক্ষোভ ও স্লোগান। প্রয়োজনে হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে স্টেশন চত্বরেই সারারাত জেগে অবস্থান করার হুঁশিয়ারি দেন সৃজন ভট্টাচার্য। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ও রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনায় বসেন বাম নেতৃত্ব। ১৯৮৮ সালের একটি আইনি রায়ের সূত্র উল্লেখ করে আইনজীবী শামিম আহমেদ ও সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে কাউকে সরানো আইনসম্মত নয়।

প্রশাসনিক পিছুটান ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি নথিপত্র পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সুর নরম করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। রেল ও পুলিশ আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং বুলডোজার সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ব্যবসায়ী ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে। এই ঘটনার ফলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলোতে রেলের উচ্ছেদ অভিযানের ভবিষ্যৎ কৌশল ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। হকারদের পুনর্বাসনের দাবিটি আরও জোরালো রূপ নেওয়ায়, আগামী দিনে যেকোনো উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার আগেই প্রশাসনকে বিকল্প ব্যবস্থার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *