মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আজই ঢুকছে ৩ হাজার টাকা, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র বড় সূচনা করল রাজ্য সরকার

রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করল বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। আজ থেকেই উপভোক্তা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দিনেই রাজ্যের ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন মহিলার অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এই উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘গ্যারান্টি স্কিম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভুয়ো নাম বাদ ও নাগরিকত্বের কড়াকড়ি
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করতে সরকার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পূর্বে সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের কথা বলা হলেও, পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে পূর্ববর্তী তালিকায় হাজার হাজার ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই জটিলতা দূর করতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা নেওয়া থেকে বঞ্চিত করতে সম্পূর্ণ নতুন ফর্ম পূরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রকল্প শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত। যারা সিএএ (CAA)-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন বা পাবেন, তারা এই সুবিধা পাবেন। তবে অবৈধভাবে এ দেশে অনুপ্রবেশকারীরা এবং অতীতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনৈতিক সুবিধা নেওয়া পুরুষেরা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক তৎপরতা
যারা এখনও আবেদন করেননি, তাদের জন্য আগামী তিন মাস ফর্ম পূরণের সুযোগ থাকছে। ব্লক অফিস, বিডিও (BDO) অফিস, এসডিও (SDO) অফিস, এমএলএ (MLA) অফিস এবং পুরসভা থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি আজ থেকেই অনলাইনেও আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো কারণে যারা সশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না, সরকারি প্রতিনিধিরা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করিয়ে আনবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
জমাকৃত ফর্ম যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। প্রতি সাতদিন অন্তর এই তালিকা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মূল্যায়নের এই গতিশীল পদ্ধতির ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারা দ্রুত স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে, অযোগ্য প্রাপকদের চিহ্নিত করতে সাধারণ মানুষকেও অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।