নিউজিল্যান্ডে শতবর্ষের মহালড়াই, ৪০ দিনে ১২ ম্যাচ খেলবে ভারত

চলতি বছরের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসের এই দীর্ঘ সফরে মোট ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই সূচিতে রয়েছে পাঁচটি টি-২০, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো সফরকারী দলের বিরুদ্ধে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই সফরের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে, কারণ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ক্রীড়া সম্পর্কের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিরিজের আয়োজন করা হচ্ছে।
টানটান সূচি ও ঐতিহাসিক টেস্টের মঞ্চ
সফরের শুরুটা হবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেট দিয়ে। ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-২০ ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হবে মাঠের যুদ্ধ। এরপর ওয়েলিংটন, অকল্যান্ড এবং হ্যামিল্টনে বাকি ম্যাচগুলো খেলে ১ নভেম্বর শেষ হবে টি-২০ সিরিজ। এরপরই শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের একদিনের সিরিজ, যা ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডে শুরু হয়ে ১৫ নভেম্বর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে শেষ হবে। সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ অর্থাৎ টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ১৯ নভেম্বর থেকে। ২০১৯-২০ মরসুমের পর এই প্রথম কিউইদের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামবে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম টেস্টটি হবে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে এবং দ্বিতীয় টেস্টটি ২৭ নভেম্বর থেকে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে অনুষ্ঠিত হবে।
ক্লান্তি বনাম প্রতিশোধের চ্যালেঞ্জ
এই দীর্ঘ ও ঠাসা সূচির কারণে ক্রিকেটারদের ওপর শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে ১২টি ম্যাচ খেলা যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ মরসুমে ভারতের মাটিতে এসে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে চমক দিয়েছিল কিউইরা। ফলে এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে সেই হারের পাল্টা জবাব দেওয়ার এবং ট্রফি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ থাকবে রোহিত-বিরাটদের সামনে। একই সঙ্গে শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হওয়ায় এই সিরিজ দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে।