শরীর জ্বলছে আগুনে, বাঁচার শেষ চেষ্টায় দিল্লির হোটেল থেকে ঝাঁপ ২ মহিলার, প্রকাশ্যে গা শিউরে ওঠা ভিডিও

শরীর জ্বলছে আগুনে, বাঁচার শেষ চেষ্টায় দিল্লির হোটেল থেকে ঝাঁপ ২ মহিলার, প্রকাশ্যে গা শিউরে ওঠা ভিডিও

রাজধানীর বুকে ফের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দেশ। দক্ষিণ দিল্লির মালব্যনগরের হউজ রানি এলাকার পাঁচতলা ‘ফ্লারিশ হোটেল’-এ বুধবার সকালে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মাঝে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দাউদাউ আগুনে জ্বলতে জ্বলতে প্রাণ বাঁচাতে হোটেলের ওপরতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন দুই মহিলা। নিচে থাকা একটি ত্রিপলের ওপর তাঁরা আছড়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কম্বল চাপা দিয়ে তাঁদের গায়ের আগুন নেভান এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

ভয়াবহ এই ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ। হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ নামের একটি রেস্তরাঁ থেকে প্রথম ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত গতিতে হোটেলের ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। হোটেলের বেসমেন্ট থেকে ১১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকেরই। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।

নিয়মকে বুড়ো আঙুল ও গাফিলতির মাশুল

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক তদন্তে প্রশাসনের চরম গাফিলতি এবং চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের অধীনে এই হোটেলটিকে মাত্র ৬টি ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত এই ধরণের নিবন্ধিত হোটেলগুলো সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১৬টি ঘরের অনুমতি পেতে পারে। অথচ সমস্ত আইনকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বহুতলে ২৫ থেকে ২৮টি ঘর তৈরি করে দিনের পর দিন রমরমিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনিক তৎপরতা

এই দুর্ঘটনার পর রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবন এবং হোটেলগুলোর অগ্নি-সুরক্ষা বিধি ও আইনি বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। মাত্র ৬টি ঘরের লাইসেন্স নিয়ে কীভাবে একটি পাঁচতলা ভবন জুড়ে ২৫টিরও বেশি ঘর চালানো হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় বিধায়কও এই গাফিলতির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেননি। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই ঘটনার জেরে দিল্লির সমস্ত ছোট ও মাঝারি হোটেলগুলোর ওপর নজরদারি এবং লাইসেন্স পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে চলেছে। যথাযথ জরুরি নিকাশি পথ বা ‘ফায়ার এক্সিট’ না থাকা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ঘর নির্মাণের ফলেই প্রাণহানির সংখ্যা এতটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *