সংবিধান হাতে কর্ণাটকের মসনদে শিবকুমার, শুরু নতুন অধ্যায়

কর্ণাটকের রাজনীতিতে অবসান হলো দীর্ঘ জল্পনার। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার। বুধবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর লোকভবনের গ্রাস হাউসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ভারতের সংবিধান হাতে নিয়ে শপথ নেন তিনি। বিকেল ৪টে ১০ মিনিটে রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শিবকুমারের পাশাপাশি রাজ্যের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরেক প্রবীণ নেতা জি পরমেশ্বর। এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার আরও ১২ জন মন্ত্রী এদিন শপথ গ্রহণ করেন।
ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৮ মে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন সাপেক্ষে পদত্যাগ করেছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয়। কর্ণাটকের এই হাই-প্রোফাইল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের বার্তা দেন।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ক্ষমতার সমীকরণ
কর্ণাটকে কংগ্রেসকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর পেছনে ডি কে শিবকুমারের সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ফলে বিগত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন। তবে সরকার গঠন ও পদ বণ্টন নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র মতবিরোধও তৈরি হয়েছিল। সিদ্দারামাইয়া সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব সামলানো শিবকুমারের দাবি ছিল, তাঁর মন্ত্রিসভায় যেন কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী পদ না রাখা হয়। তবে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে শীর্ষ নেতৃত্ব সেই দাবি নাকচ করে প্রবীণ নেতা জি পরমেশ্বরকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছে, যা দলের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবকুমারের এই ক্ষমতা লাভ কর্ণাটকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে আরও মজবুত করবে। তবে একই সাথে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের দুটি শক্তিশালী শিবিরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। শিবকুমারের বিপুল সমর্থকগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান যেমন তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জয়কে তুলে ধরেছে, তেমনই উপমুখ্যমন্ত্রী পদের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরের সুপ্ত অসন্তোষ আগামী দিনে প্রশাসনের স্থায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।