তাপপ্রবাহের জেরে ৮০৫৬ মৃত্যু! উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, জানলে অবাক হবেন

তাপপ্রবাহের জেরে ৮০৫৬ মৃত্যু! উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, জানলে অবাক হবেন

উত্তর ভারতে দিন দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে আবহাওয়া পরিবর্তন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, উত্তরপ্রদেশে যদি টানা পাঁচ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ বা ‘হিটওয়েভ’ চলে, তবে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। মাত্র ৫ দিনের এই সময়ের মধ্যে রাজ্যটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ৫৬ জনে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। কেবল উত্তরপ্রদেশেই নয়, পার্শ্ববর্তী বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা দেশে যদি এমন দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে দেশজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একক রাজ্য হিসেবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে উত্তরপ্রদেশ। এছাড়া বিহারে ৩ হাজার ৬১৫ জন, মধ্যপ্রদেশে ২ হাজার ৯৬৪ জন এবং রাজস্থানে ২ হাজার ৬৬৪ জনের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তাপপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি, তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর জনঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এই গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন গবেষকরা।

কেন উত্তরপ্রদেশে সর্বোচ্চ ঝুঁকির আশঙ্কা

উত্তরপ্রদেশের এই ভয়াবহ পূর্বাভাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এখানকার বিশাল জনসংখ্যা ও জনঘনত্বকে। দেশের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে সাধারণ সময়েও অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় মৃত্যুর হার বেশি। ফলে তীব্র তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখানকার বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে, যা এই প্রাণহানির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গ্রামীণ এলাকায় বিপর্যয়ের গভীরতা আরও বেশি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পরিসংখ্যানগুলো মূলত শহরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রাথমিক অনুমান মাত্র। বাস্তব পরিস্থিতি এর চেয়েও কয়েক গুণ মারাত্মক হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের একটি বিশাল অংশের মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন। গ্রামের কৃষক, দিনমজুর ও শ্রমিকদের জীবিকার তাগিদে প্রখর রোদের মধ্যেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। শহুরে এলাকার তুলনায় গ্রামীণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচার পরিকাঠামো ও সচেতনতা অনেক কম। ফলে আবহাওয়া পরিবর্তনের এই মারণ কামড় গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *