ফিরহাদ জমানার তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বসছে প্রশাসক

তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে সেখানে নতুন প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী তারকেশ্বর মন্দিরের চারপাশের চেনা নীল-সাদা রং বদলে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার তারকেশ্বর সফরে গিয়ে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে।
ভেঙে দেওয়া হলো বোর্ড, দায়িত্বে নতুন প্রশাসক
২০১৭ সালের ১ জুন তৎকালীন রাজ্য সরকার তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ গঠন করেছিল। সেই সময় পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ফিরহাদ হাকিমকে বসানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ তথা এটিকে ‘ডিফান্ড’ করা হয়েছে। পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এডিএম জেলা পরিষদ অনুজ প্রতাপ সিং-কে। আসন্ন শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে বাবা তারকনাথের দর্শনে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ও বড় ধরনের পরিকাঠামোগত বন্দোবস্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
বদলে যাচ্ছে নীল-সাদা রং
প্রশাসনিক পরিকাঠামো পরিবর্তনের পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দির চত্বরের দৃশ্যমান রূপও বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মন্দিরের আশপাশে আর পূর্বতন সরকারের চেনা নীল-সাদা রং থাকবে না। পবিত্র দুধপুকুর পাড়ের রঙের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই রং স্থানীয় আধ্যাত্মিকতা বা সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। ফলে দ্রুত এই রং পরিবর্তন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল ও প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তারকেশ্বরকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার ভারতভুক্তির রেজুলিউশন এই তারকেশ্বরেই হয়েছিল। আগামী ২০ জুনকে কেন্দ্র করে সরকারের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারকেশ্বরের ধর্মীয় পরিবেশের পবিত্রতা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে প্রশাসক বসানোর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।