ছোট লালবাড়িতে কি শেষ ববির যুগ? মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছায় মমতার সম্মতি, বিস্ফোরক দাবি কুণালের

ছোট লালবাড়িতে কি শেষ ববির যুগ? মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছায় মমতার সম্মতি, বিস্ফোরক দাবি কুণালের

নবান্নের পর এবার কলকাতা পুরসভা তথা ‘ছোট লালবাড়ি’। এক মাসের ব্যবধানে নীলবাড়ির লড়াইয়ে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার পুরসভার নিয়ন্ত্রণও হারাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহের নাটকীয় পদত্যাগের পর, বুধবার মেয়রের আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষোভ ও সম্মানের লড়াই

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ফিরেই ফিরহাদ হাকিম তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগের অনুমতি চান। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরসভায় বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করা আসাম্ভব হয়ে পড়ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বারণ করলেও, ফিরহাদ ‘সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি’ চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তাতে সম্মতি দেন। ২০১৮ সালে কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এবং টানা আট বছর সামলানোর পর ফিরহাদের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত দলের অন্দরে বড়সড় ফাটল স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সংকটের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ও ভাঙন

এই সংকটের সূত্রপাত মূলত মঙ্গলবার, যখন মেয়র পারিষদ তারক সিংহ ফিরহাদ হাকিম ও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগ করেন। কর্মী-সমর্থকদের সুরক্ষা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন। এর পাশাপাশি, দলে ভাঙন রুখতে তড়িঘড়ি সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। একই দিনে দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হওয়া এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডির নোটিস পাঠানো—সব মিলিয়ে এক চরম প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার এই ভাঙন তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরও দুর্বল করে তুলবে। মেয়রের পদত্যাগ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে, পুরসভার কাজ থমকে যাওয়ায় কলকাতার নাগরিক পরিষেবা ও নিকাশি ব্যবস্থা বড়সড় সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *