আবাসের টাকা ঢুকতেই তৃণমূল নেতার হানা, বাসন্তীতে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধসহ একাধিক উপভোক্তার টাকা গায়েবের অভিযোগ

আবাসের টাকা ঢুকতেই তৃণমূল নেতার হানা, বাসন্তীতে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধসহ একাধিক উপভোক্তার টাকা গায়েবের অভিযোগ

আবাস যোজনার পাকা বাড়ি পাওয়ার আনন্দ মুহূর্তে ম্লান হয়ে গেল কাটমানির গ্রাসে। সরকারি নিয়ম মেনে মাথার ওপর পাকা ছাদ তৈরির জন্য টাকা পেয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা ষাটোর্ধ্ব শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ সাইফুদ্দিন সর্দার। কিন্তু অভিযোগ, আবাসের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই তাঁর ওপর চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শাহাজান সর্দার। ভয় দেখিয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার সরকারি অনুদান থেকে এক ধাক্কায় ৪০ হাজার টাকা কাটমানি হিসেবে কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে সাহস জুটিয়ে বাসন্তী থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ।

ভয়ের পরিবেশ ও কাটমানির থাবা

তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রেজিনা সর্দারের স্বামী তথা প্রভাবশালী নেতা শাহাজান সর্দারের বিরুদ্ধে এই তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সাইফুদ্দিন সর্দারের দাবি, চোখের সমস্যার কারণে তিনি ভালো দেখতে পান না, তায় শারীরিক প্রতিবন্ধী। সরকারি ঘর পাওয়ার পর যখন টাকা আসে, তখন এই নেতার হুমকির মুখে পড়ে চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। ফলে সেই সময় প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। কেবল সাইফুদ্দিন নন, একই এলাকার বাসিন্দা হাফিজুল সর্দার নামে আরও এক ব্যক্তিও ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়ার সমান্তরাল অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন উপভোক্তাদের মনে সাহস জোগানোয়, তাঁরা এখন প্রকাশ্যে এসে শিমুলতলা পুলিশ ক্যাম্প হয়ে বাসন্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রামীণ স্তরে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবই এই কাটমানি সংস্কৃতির মূল কারণ। গরিব ও অসহায় মানুষদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বা পরবর্তীকালে ভয় দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দুর্নীতির কারণে প্রকৃত অভাবী মানুষেরা সরকারি প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা গ্রামীণ আবাসন ব্যবস্থার অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। পাশাপাশি, পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ওপর এখন স্থানীয় প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *