অভিষেকের বাড়িতে ইডি, অন্যদিকে বিধানসভায় বিদ্রোহীদের চাল চাললেন ঋতব্রত

অভিষেকের বাড়িতে ইডি, অন্যদিকে বিধানসভায় বিদ্রোহীদের চাল চাললেন ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা তীব্র হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে দলের পরিষদীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক বড়সড় ভাঙন ও বিদ্রোহ। সদ্য প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাজির হওয়া এবং বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের একাংশের নতুন সমীকরণ গঠন—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এর পাশাপাশি কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে দুই ব্যাগ ভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক বনাম বিরোধী তরজা আরও তীব্র হয়েছে।

অভিষেকের দুয়ারে কেন্দ্রীয় সংস্থা

পুরসভার তরফ থেকে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ এনে নোটিশ দেওয়ার পর, বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় সদ্য প্রাক্তন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছেছিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাজিরা এড়াতে সমর্থ হন। কিন্তু এবার সেই পর্ব কাটিয়ে সরাসরি তাঁর বাড়িতে হাজির হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারীরা সশরীরে সমন হাতে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতির কোন নয়া সূত্র ধরে এই কেন্দ্রীয় তৎপরতা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

দলনেতাহীন এক নতুন টিম, বিধানসভায় বিদ্রোহীদের মাস্টারস্ট্রোক

দলীয় নেতৃত্বের প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা প্রকাশ করে বিধানসভায় এক নয়া সমীকরণ তৈরি করেছেন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ। ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, এই পরিষদীয় দলে নির্দিষ্ট কোনও একক নেতা নেই, এটি একটি ‘টিম’। তিনি তৃণমূলের রীতিনীতি মেনে এই ৫৮ জন বিধায়ককে বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল (প্রিন্সিপ্যাল অপজিশন) হিসেবে দাবি করেছেন। এই নতুন সমীকরণে চিফ হুইপ করা হয়েছে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে। এছাড়া জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহাকে ডেপুটি লিডার করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ক্রমশ বাড়ছিল। সই জালিয়াতির মতো বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় তদন্তের ক্রমবর্ধমান চাপ সেই অসন্তোষে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। এই বিদ্রোহের জেরে বিধানসভার অন্দরে সরকারের পক্ষে বিল পাস করানো বা সংখ্যাধিক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে, একদিকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে ব্যাগ ভর্তি টাকা উদ্ধার নিয়ে বিজেপির আক্রমণ এবং অন্যদিকে দলের অন্দরের এই স্পষ্ট ফাটল—আগামী দিনে রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর জোড়া চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *