মন্দিরে স্যান্ডো গেঞ্জি আর শর্টস, নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের মুখে বরুণ ধাওয়ান

মন্দিরে স্যান্ডো গেঞ্জি আর শর্টস, নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের মুখে বরুণ ধাওয়ান

রুপোলি পর্দার বাইরে বলিউড তারকাদের ফ্যাশন সেন্স বা পোশাক নির্বাচন প্রায়শই লাইমলাইটে থাকে। কিন্তু এবার নিজের আসন্ন ছবির সাফল্যের কামনায় মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে এক অনভিপ্রেত বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। তাঁর পরনের অতি সাধারণ ও ক্যাজুয়াল পোশাক দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশ। মন্দিরের মতো পবিত্র ধর্মীয় স্থানে অভিনেতার এমন পোশাক নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল দুনিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আসন্ন ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-এর মুক্তির আগে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিতে মন্দিরে পৌঁছেছিলেন বরুণ ধাওয়ান। তবে সেখানে তাঁকে প্রথাগত কোনো পোশাকের পরিবর্তে দেখা যায় সম্পূর্ণ ঘরোয়া পোশাকে। একটি ঢিলেঢালা হাফ প্যান্ট এবং সাদা রঙের সাধারণ স্যান্ডো গেঞ্জি পরে তিনি সরাসরি মন্দিরে প্রবেশ করেন। সোশাল মিডিয়ায় এই সফরের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই শুরু হয় তুমুল ট্রোলিং। অনেকেই ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে অভিনেতার এই আচরণকে সংস্কার ও শালীনতাবোধের অভাব হিসেবে দেখছেন।

সংস্কৃতির অবমাননা নাকি আধুনিকতার অতিশয্য

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োর কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ ও অনুরাগীদের অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, তারকাদের প্রচুর অর্থ বা পরিচিতি থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম ভদ্রতা ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত। সমালোচকদের মতে, মন্দির কোনো জিমনেসিয়াম বা শোওয়ার ঘর নয় যে সেখানে এমন ক্যাজুয়াল পোশাকে চলে যাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষ যাদের আদর্শ বা আইকন হিসেবে বিবেচনা করে, তাঁদের আচরণে ও পোশাকে আরও বেশি দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।

ছবির প্রচারে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

চলতি বছরেই বরুণ ধাওয়ানের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবি মুক্তির আগে তারকাদের মন্দিরে পুজো দেওয়া বা ধর্মীয় আচার পালন করা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এই আন্তরিক চেষ্টায় পোশাকের এমন অসচেতনতা ছবির প্রচারে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিতর্কিত ‘মন্দির লুক’ কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিনেতার ভাবমূর্তি বা ছবির ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *