ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে কুয়েতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র নিন্দা দিল্লির

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন ভারতীয়সহ ৬৮ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক জনগণের ওপর এই হামলাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছে দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার তীব্র বিরোধিতা দিল্লির
কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাস ও বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত বেসামরিক জনসংখ্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছে। আমজনতার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি কুয়েতের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছে ভারতীয় দূতাবাস।
হামলার কারণ ও মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পারস্য সাগর, হরমুজ প্রণালী ও কেশন দ্বীপে মার্কিন সামরিক অভিযানের ‘বদলা’ নিতেই তারা কুয়েতের এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলার জেরে কুয়েতের বিমানবন্দরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এই হামলার প্রভাব কেবল কুয়েতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পার্শ্ববর্তী বাহরিনসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বাহরিনের আকাশেও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি দেখা গেছে, যার ফলে দেশটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও ইরানি শক্তির এই সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, কর্মসংস্থানের কারণে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করেন। এই ধরনের হামলার ফলে এখন ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।