আইসিইউর বন্ধ ঘরে কালো ধোঁয়া, বিহারে হাসপাতাল কর্মীদের অমানবিক পলায়নে প্রাণ গেল রোগীদের!

বিহারের মুজফ্ফরপুরের ব্রহ্মপুরার প্রসাদ হাসপাতালে ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পঞ্চম তলে অবস্থিত আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ওয়ার্ডে আগুন লাগার কারণে এই বিপর্যয় ঘটে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং অগ্নিদগ্ধ হয়ে আরও অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রোগী গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধার হওয়া রোগীদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও উদ্ধারকাজ
প্রাথমিক তদন্ত ও দমকল সূত্রের খবর, ভোররাত ৩টে নাগাদ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আইসিইউ ওয়ার্ডটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে রোগীদের উদ্ধার করতে হয়। দমকল কর্মকর্তা আর এন পান্ডে জানিয়েছেন, তাঁরা যখন পৌঁছান তখন গোটা আইসিইউ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্তব্যে গাফিলতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই রোগীদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। দমকল কর্মীরাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের সময় হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এই গাফিলতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিকাঠামো, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের মুখে পড়তে চলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।