পেশাদার চিকিৎসক থেকে বাংলার পূর্ণমন্ত্রী, কুলটির দীর্ঘ খরা কাটালেন ডাক্তার অজয় কুমার পোদ্দার

বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন কুলটির প্রবীণ চিকিৎসক ও টানা দুবারের বিধায়ক ডাক্তার অজয় কুমার পোদ্দার। সোমবার লোকভবনে আয়োজিত মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অতীতে একাধিক হেভিওয়েট নেতা নির্বাচিত হলেও এই প্রথম কোনো বিধায়ক মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন। ডাক্তার পোদ্দারের এই সাফল্যে কুলটি শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের খরা কাটল এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হলো। এবারের নির্বাচনে এই জেলায় বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে অজয় কুমার পোদ্দারকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
আরএসএস-এর ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
ডাক্তার অজয় কুমার পোদ্দারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক দশক আগে। ১৯৭২ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে জনসংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে পা রাখেন। ৬৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক পেশায় একজন অত্যন্ত দক্ষ ও জনপ্রিয় চিকিৎসক। ১৯৯২ সালে রাঁচি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করার পর তিনি দীর্ঘ সময় মানুষের চিকিৎসার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিজিৎ ঘটককে ২৬,৪৯৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের জন্য কুলটি আসনটি নিজের দখলে রাখেন।
শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর লক্ষ্য
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডা. অজয় কুমার পোদ্দার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও স্বপ্নের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, বাংলায় বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছিল জনসংঘের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর প্রধান লক্ষ্য কুলটিসহ সমগ্র আসানসোল শিল্পাঞ্চলের হারানো অর্থনৈতিক ও সামাজিক গৌরব পুনরুদ্ধার করা। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, এই প্রবীণ নেতাকে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর কিংবা শ্রম দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পেশাদার চিকিৎসক এবং দীর্ঘদিন তৃণমূল স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতার হাত ধরে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কুটির শিল্পীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং এই অঞ্চলের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।