মমতার কেদারায় ঘোর আপত্তি, সূর্যকান্ত মিশ্রের স্মৃতিতেই আস্থা নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ‘চেয়ার’ ঘিরে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার কক্ষে প্রবেশ করেই নিজের বসার আসনটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নতুন ব্লকের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটিতে বসতে স্পষ্ট অনীহা প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিবর্তে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার বামপন্থী বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের ব্যবহৃত চেয়ারটিই নিজের জন্য বরাদ্দ করার আবেদন জানিয়েছেন ঋতব্রত।
রাজনৈতিক প্রতীক ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা
রাজনৈতিক মহলে ‘চেয়ার’ বা আসনের গুরুত্ব সর্বদা প্রতীকী ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক অর্থ বহন করে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটি বিরোধী দলনেতার ঘরে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে বিরোধী দলে বসার বৈধতা পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আসনটিতে বসার পর যখন তিনি জানতে পারেন এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ার, তখনই তিনি বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সেটি বদলে ফেলার নির্দেশ দেন। মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মান্য করলেও, তাঁর ব্যবহৃত আসনে বসে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করা ঋতব্রতর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
এই আসন-বিভ্রাটের মধ্যেই অবশ্য নতুন বিরোধী দলনেতা এবং চিফ হুইপের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্য সরকারের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সরকারি গাড়ি পেতে চলেছেন নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে চিফ হুইপ হিসেবে সমপর্যায়ের সব ধরনের সরকারি সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে আকরুজ্জ্জামানের জন্যও। তবে বিধানসভার অন্দরে এই ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদল এবং প্রতীকী চেয়ার বর্জনের ঘটনাটি আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করবে।