রেলস্টেশনে বৈধ ব্যবসার সুযোগ, জেনে নিন লাইসেন্স পাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক ভারতে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। বিপুল এই যাত্রী সমাগমের কারণে রেলস্টেশনগুলি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি কলকাতা শহরজুড়ে রেলস্টেশনগুলিতে অবৈধ হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নানামুখী বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তবে রেলের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধভাবে স্টেশনে দোকান দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রেলে ব্যবসা করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বৈধভাবে লাইসেন্স নিতে হয়।
আইআরসিটিসি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া
রেলস্টেশনে খাবারের দোকান, বইয়ের স্টল বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দোকান খুলতে হলে রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হয়। ট্রেনে খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে স্টেশনের বাণিজ্যিক স্টল বণ্টনের মূল দায়িত্বে থাকে আইআরসিটিসি (IRCTC)। রেলওয়ে যখন নতুন দোকানের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি জারি করে, তখন আগ্রহী ব্যবসায়ীদের আইআরসিটিসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ভারতীয় রেলের টেন্ডার পোর্টালে (https://www.ireps.gov.in/) গিয়ে আবেদন করতে হয়।
লাইসেন্স ফি ও বিডিং পদ্ধতি
রেলস্টেশনে দোকান পাওয়ার পুরো বিষয়টি একটি স্বচ্ছ বিডিং বা নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রেলওয়ে প্রতিটি দোকানের জন্য একটি ন্যূনতম সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করে এবং সর্বোচ্চ দরদাতাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়। স্টেশনে দোকান খোলার খরচ বা মাসিক ভাড়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে স্টেশনের শ্রেণীবিভাগ, ব্যস্ততা, দোকানের আকার এবং প্ল্যাটফর্মে তার অবস্থানের ওপর। ব্যস্ত স্টেশনে খরচ বেশি হলেও ছোট বা কম ভিড়ের স্টেশনে খরচ তুলনামূলক কম। সাধারণত একটি স্টল খোলার প্রাথমিক খরচ ৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ও সিকিউরিটি ডিপোজিট অন্তর্ভুক্ত থাকে।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি
রেলস্টেশনে বৈধ লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর কোনো অপরাধমূলক পুলিশি রেকর্ড থাকা চলবে না। আবেদনের সময় প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং বিগত কয়েক বছরের আয়কর রিটার্নের (ITR) নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সমস্ত নিয়ম মেনে আবেদন করলে কম খরচে রেলস্টেশনের মতো ব্যস্ত জায়গায় বৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের স্থায়ী রুজি-রুটির সুযোগ মিলতে পারে।