বদল হচ্ছে কলকাতার মেয়র, ফিরহাদের ইস্তফার জল্পনায় বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভাঙন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের আবহেই এবার কলকাতার মেয়র পদ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করতে চেয়েছেন এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সেই অনুমতিও দিয়েছেন। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, পদত্যাগের বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বিষয়টিকে ফিরহাদের ‘প্রেশার পলিটিক্স’ হিসেবে দেখছেন, যার জেরে পুরনিগমে তৃণমূলের বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুভেন্দুর সঙ্গে সৌজন্য এবং মমতার অসন্তোষ
এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফিরহাদ হাকিম সেই বৈঠকে যোগ দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা ফিরহাদকে বিশেষ খাতির ও সৌজন্য প্রদর্শন করেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ফিরহাদ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে না গিয়ে সরাসরি কলকাতা পুরনিগমে চলে যান, যা দলনেত্রীর অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ফোন করে ক্ষোভপ্রকাশ করলে দুই নেতার মধ্যকার দূরত্ব ও ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে।
বিকল্প নেতৃত্বের খোঁজ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ফিরহাদ হাকিমের বিকল্প হিসেবে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতার মেয়র পদে বসানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। তবে তৃণমূলের কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ পাল্টা ঘুঁটি চালার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রভাবশালী নেতাকে মেয়র পদ থেকে সরানো হলে কলকাতা পুরসভাতেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে বড়সড় ধস নামতে পারে। একই সাথে রাজ্যের ক্ষমতা কাঠামোর এই দ্রুত পরিবর্তন তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাকেই স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।