ধর্নামঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন মমতা, ওপার বাংলায় তুমুল তোলপাড়

নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্রে এলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে একটি ধর্না কর্মসূচিতে বসেন তিনি। পরাজয়ের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য রাখা। তবে সেই মঞ্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গোপনীয়তা নিয়ে করা তাঁর কিছু মন্তব্য ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও মমতার বিস্ফোরক দাবি
ধর্নামঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন তাঁরা এবং এবার তিনি আর কোনো কিছু চেপে রাখবেন না। এরপরই তিনি এক অভিযুক্তের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অতীতে হওয়া কথোপকথনের একটি অংশ জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেন। যদিও দেশের স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নাম নেননি, তবুও একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া গোপন আলোচনা এভাবে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাজনীতির স্বার্থে এমন মন্তব্য করা যায় কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও দলে ভাঙন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জল গড়াতে না গড়াতেই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তাঁর দল। তৃণমূল ভেঙে কার্যত দু’টুকরো হয়ে গেছে। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে নতুন ব্লক গঠন করে বিরোধী দলনেতার তকমা পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নতুন রাজনৈতিক ব্লক মমতাকে পরামর্শদাতা হিসেবে মানতে রাজি হলেও তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের দায় নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণভাবে মমতার ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে পরিষদীয় দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের জেরে একদিকে যেমন জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হয়েছে।