দিল্লির হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে বিধ্বংসী আগুন, নেই ফায়ার এনওসি, সিলিন্ডারের ফাঁদে মৃত ২১

দিল্লির হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে বিধ্বংসী আগুন, নেই ফায়ার এনওসি, সিলিন্ডারের ফাঁদে মৃত ২১

দেশ তথা রাজধানীর বুকে ঘটে গেল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ডের বিপর্যয়। দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হৌজ রানি এলাকার ‘ফ্লরিশ স্টে’ নামের একটি হোটেলে বুধবার সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২২ সালের পর দিল্লির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম আরও অন্তত ১০-১২ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত।

অবৈজ্ঞানিক স্থাপত্য ও সুরক্ষার চরম অভাব

তদন্তকারীদের মতে, পাঁচ তলাবিশিষ্ট এই ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেলটির অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো এবং স্থাপত্য ছিল অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। বহুতলটিতে যাতায়াতের জন্য কেবল একটিমাত্র প্রবেশ ও বেরনোর পথ ছিল, কোনো আপৎকালীন ‘ফায়ার এক্সিট’ রাখা হয়নি। হোটেলের ঘরের জানালাগুলো স্থায়ীভাবে সিল করা থাকায় বিষাক্ত ধোঁয়া বাইরে বের হতে পারেনি, ফলে দমবন্ধ হয়েই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এমনকি হোটেলের প্রধান স্বয়ংক্রিয় সেন্সর দরজাটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যাম হয়ে যাওয়ায় আবাসিকদের পালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

মৃত্যুর ফাঁদ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার এবং লাইসেন্সহীন ব্যবসা

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, হোটেলের বেসমেন্ট এবং ছাদে দুটি আলাদা রান্নাঘর চালানো হতো। সেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মজুত ছিল ৪টিরও বেশি ভারী বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার। শর্ট সার্কিটের আগুন এই গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর সংস্পর্শে আসায় তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের পরিস্থিতি তৈরি করে।

সবচেয়ে বড় গাফিলতির বিষয় হলো, এত বড় একটি হোটেল চললেও কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বৈধ অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র বা ‘ফায়ার এনওসি’ ছিল না। ভবনে আগুন নেভানোর আধুনিক কোনো পরিকাঠামো না থাকায় প্রাথমিক স্তরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এই চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার দায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিল্লি পুলিশ। একই সাথে এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক যোগসাজশ বা ছাড়পত্রের গাফিলতি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *