বিদায় নিলেন ‘উড়তা পাঞ্জাব’ কাঁপানো সেন্সর বোর্ডের বিতর্কিত প্রাক্তন প্রধান পহলাজ নিহালানি!

বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে যকৃত বা লিভারের গুরুতর সমস্যায় ভুগে ৭৬ বছর বয়সে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। বাণিজ্যিক ছবির সফল জাদুকর হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পেলেও সেন্সর বোর্ডের প্রধান হিসেবে তাঁর আড়াই বছরের মেয়াদকাল ছিল ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়।
নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক সিনেমার একচ্ছত্র জাদুকর ছিলেন পহলাজ নিহালানি। ১৯৮২ সালে ‘হাথকড়ি’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজনা শুরু করে গোবিন্দ, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং ধর্মেন্দ্রর মতো তারকাদের নিয়ে একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই ‘ইলজাম’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিনেতা গোবিন্দের অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ‘শোলা অউর শবনম’ এবং ‘আঁখে’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র ব্যবসায় রেকর্ড সৃষ্টি করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অ্যাসোসিয়েশন অফ মোশন পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স-এর সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন তিনি।
রক্ষণশীল নীতি বনাম শৈল্পিক স্বাধীনতা
২০১৫ সালে সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে বসার পর থেকেই পহলাজ নিহালানির কঠোর ও রক্ষণশীল নীতি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের জন্ম দেয়। ছবিতে নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা তৈরি করা, জেমস বন্ডের ছবির চুম্বনের দৃশ্য ছেঁটে ফেলা কিংবা ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুর্খা’ ছবিটিকে ‘নারী-প্রধান’ আখ্যা দিয়ে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানানো চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে ৮৯টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যা তৎকালীন সময়ে সেন্সরশিপের নামে শৈল্পিক স্বাধীনতা হরণের এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
চলচ্চিত্র জগতে সম্ভাব্য প্রভাব
পহলাজ নিহালানির প্রয়াণ যেমন বলিউডের মূল ধারার বাণিজ্যিক সিনেমার এক সোনালী যুগের অবসান ঘটাল, তেমনই চলচ্চিত্র মূল্যায়ন ও শংসাপত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় বিতর্কের ইতিহাসকেও পুনরুজ্জীবিত করল। তাঁর কঠোর সেন্সরশিপ নীতি পরবর্তীতে ভারতীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদকে আধুনিক ও উদারপন্থী করার ক্ষেত্রে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছিল। মুক্তমনা চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁর এই রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সিনেমার স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে আরও সুসংহত করতে পেরেছিলেন, যার প্রভাব বর্তমান সময়ের ভারতীয় চলচ্চিত্রে এখনও স্পষ্ট।