অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান: আজ ভারতেই বর্ষার প্রবেশ, জানুন কবে ভিজবে বাংলা?

অবশেষে অপেক্ষার অবসান, আজই দেশে পা রাখছে বর্ষা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর হাত ধরে ভারতে প্রবেশ করছে বর্ষা। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কেরলে বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেরল ও তামিলনাড়ুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের গতিবেগসহ মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মানদণ্ড পূরণ হওয়ার পরই এই আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটছে।
দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত বৃষ্টির পূর্বাভাস
কেরলে প্রবেশের মাধ্যমে বর্ষার পথচলা শুরু হলেও আগামী কয়েক দিনে তা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ জুন কেরলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে তামিলনাড়ু, লাক্ষাদ্বীপ ও কর্নাটকের উপকূলীয় অঞ্চলেও। শুক্রবারের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে কঙ্কন, গোয়া ও মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, আগামী কয়েক দিনে মধ্য ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবার অর্থাৎ ৬ জুনের পর বর্ষা আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হবে। এই আবহাওয়াজনিত পরিবর্তনের ফলে সপ্তাহান্তেই আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশসহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো এবং সিকিমে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
বর্ষার প্রভাব ও গতিপথ
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর এই সক্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ থেকে জনজীবনকে স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মৌসুমী বায়ু মধ্য ভারতের ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়। চলতি বছরও বর্ষার এই স্বাভাবিক গতিধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ক্রমান্বয়ে তা পূর্ব ও উত্তর ভারতের বাকি অংশগুলোতেও বিস্তার লাভ করবে। কৃষিপ্রধান অঞ্চলে বর্ষার এই আগমন চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।