বহিষ্কৃত হয়েও তৃণমূলের রাশ ঋতব্রতর হাতে, মমতার হাতছাড়া পরিষদীয় দল!

বহিষ্কৃত হয়েও তৃণমূলের রাশ ঋতব্রতর হাতে, মমতার হাতছাড়া পরিষদীয় দল!

প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েই বাজিমাত করা তরুণ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নাটকীয় মোড় ঘুরিয়ে সেই বহিষ্কৃত নেতাই এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতর স্বীকৃতি পাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কীভাবে তিনি তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা হলেন?

আইনি মারপ্যাঁচে উল্টে গেল পাশা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের (অ্যান্টি ডিফেকশন ল) বিশেষ ধারাটিই এখানে ঋতব্রতর প্রধান হাতিয়ার হয়েছে। সংবিধানে বলা আছে, দলের সিংহভাগ বিধায়ক যদি এককাট্টা হন, তবে তাঁদের অংশটিই মূল দল হিসেবে গণ্য হয়। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ জন বিধায়কের সই ও সমর্থন নিয়ে স্পিকারের কাছে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেছেন। ফলে আইনি পরিভাষায় মমতাপন্থীদের চেয়ে ঋতব্রতর অংশটিই এখন বিধানসভায় মূল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে মান্যতা পাচ্ছে।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই নজিরবিহীন সংকটের সূত্রপাত মূলত দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ‘জাল সই’ কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা সরাসরি এই অন্যায়ের বিরোধিতা করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বহিষ্কার করেন। কিন্তু এই বহিষ্কারের পাল্টায় ঋতব্রত গোপনে বিধায়কদের সংগঠিত করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এর ফলে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কার্যত তৃণমূলের সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ চলে গেল। স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠির কার্যকারিতা হারিয়েছে। এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনের দরবারেও এখন ঋতব্রতদের পাল্লাই ভারী হতে চলেছে, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল কর্তৃত্ব এবং প্রতীকের মালিকানা নির্ধারণে বড়সড় প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *