তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, তেরো বছর আগের কোন দূরদর্শী কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের চরম ভাঙন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ছে, তা রাজ্যবাসীকে অবাক করেছে। তবে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আজ থেকে ঠিক তাসের তেরো বছর আগে, ২০১৩ সালে নিখুঁতভাবে অনুমান করেছিলেন সিপিআইএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। তৎকালীন সময়ে তাঁর সেই মন্তব্যকে অবাস্তব মনে করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা সম্পূর্ণ মিলে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তাঁর সেই পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপকভাবে ভাইরাল।
দূরদর্শী গৌতম দেব ও তাঁর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি
২০১৩ সালে এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে গৌতম দেব স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশিদিন রাজ্য কিংবা দল কোনোটিই চালাতে পারবেন না। তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এমন কিছু লক্ষণ স্পষ্ট যা ইঙ্গিত করে দলটির ভবিষ্যৎ ধ্বংস ও নিশ্চিত বিভাজন। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একটি দল এভাবে ভেঙে যেতে পারে—সে সময় এ কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায়নি, এমনকি বাম শিবিরের একাংশও তখন মুচকি হেসেছিলেন। তবে ডাকাবুকো ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত এই বর্ষীয়ান বাম নেতা তাঁর দাবিতে অনড় ছিলেন। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিলে কালো টাকার ব্যবহার এবং দলনেত্রীর সততা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে বারবার সরব হয়েছিলেন।
তৃণমূলের বর্তমান সংকট ও ক্ষমতার হাতবদল
নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের রাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ফসকাতে শুরু করেছে। যার সর্বশেষ ও বড় প্রমাণ কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে একদা সিপিআইএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত এখন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসেছেন, অন্যদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল ‘পরামর্শদাতা’ পদে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দলীয় এই তীব্র অসন্তোষ ও নেতৃত্বের কোন্দলের কারণেই তৃণমূল আজ খণ্ড-বিখণ্ড। তেরো বছর আগে গৌতম দেব যে ভাঙনের চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন, আজ রাজ্য রাজনীতিতে ঠিক সেই দৃশ্যপটই বাস্তব রূপ নিয়েছে।