তোলাবাজির পর এবার শ্লীলতাহানির মারাত্মক অভিযোগ, কলকাতায় ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর

কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের টানা তিনবারের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলের গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি ও তোলাবাজির পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পরপর দু’বার শ্লীলতাহানি ও হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। রিজেন্ট পার্ক থানায় এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এবং চলতি বছরের মে মাসে তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বিশ্বজিৎ মণ্ডল। শ্লীলতাহানির পাশাপাশি তাঁকে অশালীন ভাষায় অপমান এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ধৃত কাউন্সিলর টালিগঞ্জ এলাকার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
গ্রেফতারির কারণ ও রাজনীতির অন্দরে চাপ
বিশ্বজিৎ মণ্ডলের এই গ্রেফতারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক শাসকদলীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক অভিযোগের অংশ। গত মে মাসের শেষ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ কুমার শর্মা, ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুদীপ পোল্লে, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংহ এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস গ্রেফতার হয়েছেন। এই তালিকায় বিশ্বজিৎ মণ্ডলের নাম যুক্ত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেল। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধিদের একাংশের লাগামহীন আচরণই এই আইনি পদক্ষেপের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কঠোরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে আইনকে নিজের গতিতে চলতে দেওয়ার যে প্রশাসনিক নির্দেশ রয়েছে, সাম্প্রতিক গ্রেফতারিগুলো তারই প্রতিফলন। এই ঘটনার জেরে কলকাতা পুরসভা ও শাসকদলের অন্দরে শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হতে পারে। একইসঙ্গে, একের পর এক জনপ্রতিনিধির গ্রেফতারি স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আসন্ন দিনগুলোতে পুরসভার প্রশাসনিক কার্যকলাপে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ওপরই এখন পুরো পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।