হোমিওপ্যাথি নিয়ে পোস্ট করে ‘অশিক্ষিত সেলেব’ কটাক্ষের মুখে অনুষ্কা শর্মা

চিকিৎসাশাস্ত্রে হোমিওপ্যাথি বনাম অ্যালোপ্যাথির দীর্ঘদিনের চলমান বিতর্কে নতুন করে ঘৃতাহূতি দিলেন বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রশংসা করে একটি পোস্ট করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এমনকি এক প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছ থেকে ‘অশিক্ষিত সেলেব’ কটাক্ষও শুনতে হয়েছে তাকে।
ঘটনার সূত্রপাত অনুষ্কা শর্মার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন রূপালী পর্দা থেকে দূরে থাকা এই অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. রঞ্জন শঙ্করনের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথির ভূমিকা এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। পোস্টের ক্যাপশনে অনুষ্কা জানান, তার ব্যক্তিগত জীবনে হোমিওপ্যাথির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি ডা. শঙ্করনের স্বাস্থ্য ও সচেতন জীবনযাপন সংক্রান্ত অন্তর্দৃষ্টিকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন।
বিতর্কের কারণ ও চিকিৎসকের পাল্টা আঘাত
অনুষ্কার এই পোস্টের পরপরই নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘দ্য লিভার ডক’ নামে পরিচিত প্রখ্যাত যকৃৎ-রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস এই পোস্টের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. রঞ্জন শঙ্করনকে ‘হাতুড়ে ডাক্তার’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্কা শর্মাকে ‘অশিক্ষিত সেলেব’ বলে কটাক্ষ করেন। ডা. ফিলিপসের দাবি, হোমিওপ্যাথির ওষুধে কোনো বাস্তব ঔষধিগুণ নেই; এটি মূলত জল, অ্যালকোহল ও চিনির মিশ্রণ মাত্র, যার জন্য রোগীরা চড়া দাম গুনছেন।
সম্ভাব্য প্রভাব
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, তারকাদের এমন পোস্ট সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণহীন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচারের ফলে রোগীরা অনেক সময় মূলধারার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে দূরে সরে যান, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি বনাম আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বটি নতুন করে বড় রূপ ধারণ করেছে।