স্পেন ও জার্মানিকে স্তব্ধ করার পর এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামছে ব্লু সামুরাইরা

স্পেন ও জার্মানিকে স্তব্ধ করার পর এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামছে ব্লু সামুরাইরা

বিশ্বফুটবলে একসময় জাপানকে নিয়ে কিছুটা রসিকতা চললেও, কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা। তবে সেই সাফল্য যে কোনো আকস্মিক অঘটন ছিল না, তা গত কয়েক বছরে ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে প্রমাণ করেছে এশিয়ার এই পরাশক্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপে শুধু নকআউট পর্ব নয়, বরং ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রাখছে কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা। দীর্ঘমেয়াদি নিখুঁত পরিকল্পনা এবং বিশ্বমানের পারফরম্যান্সই জাপানের এই আত্মবিশ্বাসের মূল কারণ।

মোরিয়াসুর রণকৌশল ও আক্রমণভাগের আগুন ফর্ম

২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা কোচ হাজিমে মোরিয়াসু অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তুলেছেন। সাধারণত ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে খেললেও, প্রতিপক্ষ বুঝে কৌশল পরিবর্তনে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। এই দলের মূল শক্তি হলো প্রতিপক্ষের ওপর শুরু থেকেই তীব্র চাপ সৃষ্টি করা।

আক্রমণভাগে তাকেফুসা কুবো, রিৎসু দোয়ান ও জুনিয়া ইতোর মতো ফুটবলাররা যেকোনো রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন ও বর্তমান রিয়াল সোসিয়েদাদের তারকা তাকেফুসা কুবো এখন দলের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢোকার গতি এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এছাড়া স্ট্রাইকার হিসেবে রয়েছেন ডাচ লিগের সদ্য সমাপ্ত মরশুমে ৩১ ম্যাচে ২৫ গোল করা দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আয়াসে উয়েদা। গোলপোস্টের নিচে ভরসা জোগাচ্ছেন তরুণ গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি।

গভীর বেঞ্চ এবং দলগত সংহতির প্রভাব

দলে তাকুমি মিনামিনো বা কাওরু মিতোমার মতো তারকাদের চোটজনিত অনুপস্থিতি থাকলেও, জাপানের শক্তি কমছে না তাদের বেঞ্চের গভীরতার কারণে। তাকেহিরো তোমিয়াসু কিংবা ওয়াতারু এন্দোর মতো তারকাদেরও অনেক সময় বেঞ্চে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দিতাকে ফুটিয়ে তোলে। সাবেক কোচ আকিরা নিশিনোর মতে, জাপানের মূল শক্তি তাদের একক কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে দলগতভাবে খেলা। এই ইস্পাতকঠিন ঐক্যই তাদের সম্ভাব্য সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ।

নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার মতো কঠিন গ্রুপে পড়লেও জাপানকে এবার শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সমন্বিত ফুটবল ও ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত ব্লু সামুরাইরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *