বিশ মিনিটে বহিষ্কার আদতে অবৈধ, সংখ্যার জোরেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত! তৃণমূলকে কড়া বার্তা স্পিকারের

বিশ মিনিটে বহিষ্কার আদতে অবৈধ, সংখ্যার জোরেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত! তৃণমূলকে কড়া বার্তা স্পিকারের

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় ফেলা নজিরবিহীন ‘সই-কাণ্ড’ এবং তার জেরে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হয়ে ওঠার ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন বিধানসভার অধ্যক্ষ (স্পিকার) রথীন্দ্র বোস। গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর, আইন ও বিধানসভার নিয়মের নিখুঁত ব্যাখ্যা দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত নজিরবিহীন বার্তা দিলেন তিনি।

তৃণমূলের চিঠিতে মারাত্মক গলদ

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বহিষ্কার করার যে সিদ্ধান্ত তৃণমূল কংগ্রেস নিয়েছিল, তা আইনত গ্রাহ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্পিকার। তাঁর মতে, দলের সংবিধান অনুযায়ী ওই বহিষ্কারের চিঠি মোটেও বৈধ নয়। কাউকে দল থেকে বের করতে হলে প্রথমে নিয়ম মেনে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করতে হয় এবং তাঁকে উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। একদিনেই দুম করে কাউকে এভাবে বহিষ্কার করা যায় না। একইসঙ্গে, ঋতব্রতদের পক্ষে পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা থাকার কারণেই তাঁদের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান। অন্যদিকে, ঋতব্রতকে ঠেকাতে তৃণমূলের তরফে পাঠানো পাল্টা প্রস্তাবটিতে মারাত্মক আইনি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকায় তা পাঠপাক খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

কাঠগড়ায় শীর্ষ নেতৃত্ব, সই-জালিয়াতির তদন্তে সিআইডি

এই পুরো রাজনৈতিক নাটকের নেপথ্যে থাকা ‘জাল সই-কাণ্ডের’ জেরে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে পড়তে চলেছে শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার করা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য কয়েকজন বিধায়কের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে দিয়েছে সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সাংবাদিক বৈঠক করে এই তদন্তের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও স্বীকার করেছেন যে, দলের তরফে আসা চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে শাসক দলের অন্দরে চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *