‘শত্রু দেশ’কে হারিয়ে এশিয়ার সেরা উত্তর কোরিয়ার ক্লাব, কিম জং উনের সঙ্গে ফুটবলারদের নাচের ভিডিও ভাইরাল

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় এক নতুন এবং অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়েছে উত্তর কোরিয়ার মহিলা ফুটবল দল নেগোহিয়াং উইমেনস এফসি। প্রথম কোনও উত্তর কোরিয়ার ক্লাব হিসেবে তারা এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনের সঙ্গে দলের ফুটবলারদের আনন্দ উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন হাসিমুখে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ফুটবলাররা তাঁকে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশে নাচ-গানে মেতে উঠেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সুওন শহরে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে জাপানের শক্তিশালী ক্লাব টোকিও ভার্ডি বেলেজাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নেগোহিয়াং। খেলার প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক কিম কিয়ং ইয়ং, যিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। এই অভাবনীয় জয়ের ফলে এশিয়ার সেরা মুকুট পরার পাশাপাশি আগামী বছর আমেরিকার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মাঠের ভিন্ন চিত্র
দীর্ঘ আট বছর পর উত্তর কোরিয়ার কোনও ক্রীড়া দল দক্ষিণ কোরিয়া সফর করল। দুই দেশের মধ্যকার তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা সত্ত্বেও মাঠের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ সৌহার্দ্যপূর্ণ। ফাইনালে প্রায় ১,২০০ দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে উত্তর কোরিয়ার এই ক্লাবটিকে সমর্থন জোগান। ম্যাচ শেষে ফুটবলাররা নিজেদের জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক এই জয় উদযাপন করেন। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন যে ফুটবল আবারও দুই দেশকে এক করবে এবং আগামী দিনের বিশ্বমঞ্চের চ্যালেঞ্জেও তাঁদের সমর্থন থাকবে।
সাফল্যের কারণ ও বিশ্বমঞ্চে নতুন প্রভাব
দলটির এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনে কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ এবং মানসিক দৃঢ়তাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাচের পর দলের প্রধান কোচ রি ইউ ইল এই অর্জনের জন্য দেশের শীর্ষনেতা কিম জং উনের আন্তরিক ভালোবাসা, যত্ন ও বিশ্বাসের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা বিতর্কও ছড়ায়। এক দক্ষিণ কোরীয় সাংবাদিক উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিক নামের বদলে ‘উত্তর পক্ষ’ বলে সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন কোচ ও অধিনায়ক। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নেগোহিয়াং’ শব্দের অর্থ ‘আমার জন্মভূমি’ এবং এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল মানচিত্রে উত্তর কোরিয়া এক নতুন শক্তির বার্তা দিল।
Kim Jong-un, AFC Kadınlar Şampiyonlar Ligi'ni kazanan ilk Kuzey Kore takımı olan Naegohyang Women's FC'yi tebrik etti. pic.twitter.com/8qPXhtqhVd
— BPT (@bpthaber) June 3, 2026