খাটের তলায় লুকিয়েও শেষরক্ষা হলো না, কাটমানি কাণ্ডে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা শহিদুল

আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কোচবিহারের মাথাভাঙার জোরপাটকির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞা। গত কয়েকদিন ধরে পলাতক থাকার পর, বুধবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে মাথাভাঙা থানার পুলিশ। পুলিশি অভিযানের সময় খাটের তলায় লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি তাঁর। গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত নেতাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনরোষ
অভিযুক্ত শহিদুল মিঞার স্ত্রী জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য এবং শহিদুল নিজে মাথাভাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই দ্বৈত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় রাজনৈতিক দাপট তৈরি করেন। অভিযোগ, সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি আদায় করতেন তিনি। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ২৫ মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বড়সড় বিক্ষোভ দেখালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মাথাভাঙা থানা তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের পদ থেকে সাসপেন্ড করে এবং তিনি আত্মগোপন করেন।
গ্রেপ্তার ও সম্ভাব্য প্রভাব
গতকাল গোপনে বাড়ি ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে বাড়ি ঘেরাও করলে শহিদুল খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন, যেখান থেকে পুলিশ তাঁকে টেনে বের করে। এই গ্রেপ্তারের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, গরিব মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির সমস্ত টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চায়েত স্তরের এই দুর্নীতি ও জনপ্রতিনিধির পরিবারের এমন আচরণ স্থানীয় স্তরে শাসকদলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কার মুখে ফেলল, যা আগামী দিনে ওই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।