কেরলে পুরুষ-মহিলার একসঙ্গে শরীরচর্চায় নিষেধাজ্ঞা, ‘ইসলাম-বান্ধব’ জিম ঘিরে শোরগোল

কেরলের পালাক্কাদ জেলার পুথুনাগারামে একটি জিমকে ‘ইসলাম-বান্ধব’ হিসেবে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এই জিমটির সাম্প্রতিক সংস্কারের পর এর মালিক নওয়াজ মুথু টি একটি প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে জিমের নতুন নিয়মাবলী প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
নতুন নিয়ম ও মালিকের যুক্তি
এই জিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে পুরুষ ও মহিলারা একসঙ্গে শরীরচর্চা করতে পারবেন না। উভয়ের জন্য পৃথক স্থান, সময় এবং আলাদা প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জিমের ভেতরে কোনো ধরনের উচ্চস্বরের গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জিম মালিকের দাবি, অনেক মুসলিম ব্যক্তি ধর্মীয় নীতি মেনে চলেন এবং উচ্চশব্দে গান শোনা পছন্দ করেন না। আবার অনেক মহিলা পুরুষদের উপস্থিতিতে শরীরচর্চা করতে অস্বস্তি বোধ করেন। মূলত তাঁদের সুবিধার্থেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজমাধ্যমের বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, এই নিয়ম চালুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য জিমটিকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। বিতর্কের মুখে পড়ে জিম মালিক পরবর্তীতে ভিডিওটি মুছে ফেলেন এবং স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়, বরং সব সম্প্রদায়ের জন্যই উন্মুক্ত। ইসলামিক নীতিমালার আদলে তৈরি এই জিমটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে এটি রক্ষণশীল বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে আধুনিক মিশ্র সংস্কৃতির সমাজে এটি এক ধরণের বিভাজনমূলক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।