বাংলাদেশের বড় খুনিকে নিয়ে মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, মমতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে নতুন FIR
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/02/mamata-banerjee-2025-08-02-12-08-48.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
নির্বাচনী ধাক্কার পর আইনি জটিলতা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিং। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের জনসভা থেকে দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে অত্যন্ত উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্পর্কিত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে জড়িয়ে বক্তব্য রাখার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পদ থেকে সরার পরেও কীভাবে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতপূর্ণ তথ্য ফাঁস করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কূটনৈতিক সংকট ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা
আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংয়ের মতে, এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও কূটনৈতিক পরিবেশকে বড়সড় হুমকির মুখে ফেলছে। এটি ভারতের জাতীয় অখণ্ডতাকে যেমন ক্ষুণ্ণ করছে, ঠিক তেমনই সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলতে পারে। এই আন্তর্জাতিক সংঘাত তৈরির চেষ্টার কারণেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
ক্রমবর্ধমান আইনি অস্বস্তি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মে মাসের শেষভাগেও এই একই আইনজীবী তাঁর বিরুদ্ধে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন। সেখানে ২০২৫ সালের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে করা কিছু মন্তব্যের উল্লেখ ছিল। একের পর এক এই আইনি ধাক্কা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে ইতিমিধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।