তৃণমূলের অন্দরে এবার সংখ্যালঘু বিদ্রোহ, মুর্শিদাবাদে মমতার পাশ থেকে সরলেন ৮ মুসলিম বিধায়ক
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/12/cats-2025-10-12-16-05-21.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে আশিটি আসনে জেতা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এবার আরও স্পষ্ট। দলীয় সমীকরণ উল্টে দিয়ে দলের একটা বড় অংশের সংখ্যালঘু বিধায়ক এখন বিদ্রোহী শিবিরে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। সেখানে ৯ জন সংখ্যালঘু বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই তালিকায় বহুল চর্চিত সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসও রয়েছেন, যিনি নিজেই বুধবার বিধানসভায় উপস্থিত থেকে ঋতব্রতের সমর্থনে স্বাক্ষর করার কথা নিশ্চিত করেছেন।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ধস ও দলের অন্দরে ক্ষমতার রাশ বদল
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৭৩টি আসনেই সংখ্যালঘু ভোটারের হার ২৫ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ, দলের মোট আসনের ৯১ শতাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এবং দল মূলত এই ভোটব্যাঙ্কের ওপর ভর করেই টিকে ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূলের টিকিটে জেতা ৩৪ জন মুসলিম বিধায়কের মধ্যে ১৭ জনই অর্থাৎ ঠিক অর্ধেক এখন বিদ্রোহী শিবিরে। প্রবীণ নেতা জাভেদ খান থেকে শুরু করে কাজল শেখের মতো দাপুটে নেতারা এই গোষ্ঠীতে সামিল হয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠী জাভেদ খানকে বিধানসভার উপ বিরোধী নেতা এবং রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে মুখ্যসচেতক হিসেবে মনোনীত করেছে। এছাড়া পূর্বতন মন্ত্রিসভার সাবিনা ইয়াসমিন ও গোলাম রব্বানীর মতো চারজন সংখ্যালঘু মন্ত্রীও এই শিবিরে রয়েছেন।
মুর্শিদাবাদে একাধিপত্য ও নেতৃত্বের প্রতি অনীহা
মুর্শিদাবাদে এই বিদ্রোহের মূল কারিগর মনে করা হচ্ছে বিধায়ক আখরুজ্জামানকে। তাঁর নেতৃত্বেই সামশেরগঞ্জ, সুতি, লালগোলা, ভগবানগোলা, হরিহরপাড়া, ভরতপুর ও সাগরদিঘির বিধায়করা একজোট হয়েছেন। জেলার একমাত্র জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূলের ব্যাপক আধিপত্য থাকলেও, ২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর চেনা ছবিটা বদলে গেছে। অতীতে দলনেত্রীর বৈঠকে যোগ দিতে একদিন আগে কলকাতায় চলে আসা বিধায়করা এবার কালীঘাটের পরিষদীয় দলের বৈঠক সম্পূর্ণ বয়কট করেছেন। মুর্শিদাবাদের কোনো বিধায়ক উপস্থিত না থাকায় এবং ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন আসায় কোরামের অভাবে বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে সিপিএম-কংগ্রেস কিংবা আইএসএফ-এর দিকে ঝুঁকেছে, যার প্রমাণ মিলেছে ফলতার পুনর্নির্বাচনেও। ভোটারদের পর এবার দলের নিজস্ব বিধায়কদের এই দলত্যাগ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া সাবেক শাসক দল তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় সঙ্কট তৈরি করল।