তৃণমূলে ভাঙনের পর এবার স্পিকারের চিঠি নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল, সই তালিকা গোপন রাখা নিয়ে তুললেন প্রশ্ন

নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যেই বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে বিবাদ চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে এবার সরাসরি বিধানসভার স্পিকারকে দেওয়া চিঠি এবং বিধায়কদের সই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
গোপন চিঠি ও সই তালিকা নিয়ে বিতর্ক
কুণাল ঘোষের মূল অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল, তা জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, তথাকথিত ‘স্বচ্ছতার পূজারী’ ও বিপ্লবী বিধায়করা কেন সেই চিঠি লুকাচ্ছেন এবং সই তালিকা কেন গোপন রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে পদ বা ঘর অনুমোদন করেছেন, সেই সংক্রান্ত চিঠির হদিস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বেলেঘাটার এই বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো গভীর লুকোচুরি কাজ করছে।
নেতৃত্বের অবমাননা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
দলের প্রবীণতম তথা ১০ বারের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রথম সারির বর্ষীয়ান নেতাকে বাদ দিয়ে যাঁরা ঋতব্রতকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন, তাঁরা আসলে ‘মুখোশ’ পরে আছেন। তৃণমূলের টিকিটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে জিতে এক মাসের মধ্যে এই ধরনের আচরণকে তিনি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন। সি পি এম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রতকে তৃণমূলে আশ্রয় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন বলে কুণাল দাবি করেন।
হকার উচ্ছেদ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
শুধু দলীয় সমীকরণই নয়, নীতিগত প্রশ্নেও ঋতব্রতকে বিঁধেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও বিনা পুনর্বাসনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ঋতব্রত কোনো কথা বলেননি, বরং মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ‘পুতুলনাচের পুতুল’ হিসেবে কাজ করছেন। কুণালের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন কেবল ক্ষমতার হাতবদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং আগামী দিনে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠিপত্র পাঠানোর হুঁশিয়ারি দলের অন্দরে আরও বড় রাজনৈতিক ঝড় তুলতে পারে।