সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী এখন ডিকে শিবকুমার, তলানিতে বাংলার শুভেন্দুর সম্পত্তি

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমার। বেঙ্গালুরু দক্ষিণ জেলার এই প্রভাবশালী রাজনীতিকের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিবকুমারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এই অঙ্ক ভারতের হিন্দি বলয়ের অন্তত ১০ জন মুখ্যমন্ত্রীর সম্মিলিত সম্পত্তির চেয়েও বেশি।
শীর্ষে দাক্ষিণাত্যের ত্রয়ী, তলানিতে বাংলা
ভারতের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্পত্তির খতিয়ানে দক্ষিণ ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। ১৪১৩ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে ডিকে শিবকুমার তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা বিজয় ৬৪৮ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তেলেঙ্গানার রেভন্থ রেড্ডির ৩০ কোটি এবং কেরলের ভি ডি সতীশনের ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।
হিন্দি বলয়ের ১০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণ শিবকুমারের তুলনায় অনেকটাই কম। এই তালিকায় ছত্তিশগড়ের বিষ্ণু দেও সাই, মধ্যপ্রদেশের মোহন যাদব, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ এবং রাজস্থানের ভজনলাল শর্মার মতো কোটিপতি মুখ্যমন্ত্রীদের নাম থাকলেও তা শীর্ষ সারির তুলনায় নগণ্য। যেমন, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং সুকখুর ৭ কোটি ৮১ লাখ এবং ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সরেনের ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে।
এই তালিকায় একেবারেই ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিধানসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নিজস্ব কোনো গাড়ি বা অলঙ্কার নেই। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণও অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তুলনায় নামমাত্র ছিল।
আর্থিক বৈষম্যের কারণ ও প্রভাব
জাতীয় স্তরে মুখ্যমন্ত্রীদের এই বিপুল সম্পত্তিগত পার্থক্যের মূল কারণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নেতাদের ব্যক্তিগত পেশাগত পটভূমি। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ ব্যবসায়িক সংযোগ ও সিনেমা জগতের প্রভাব আর্থিক সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিপরীতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহ্যগতভাবেই নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আদর্শিক পরিচিতিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীদের এই আর্থিক পরিসংখ্যান একদিকে যেমন নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থবলের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে এটি বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জীবনযাত্রার গুণগত বৈষম্যকেও জনসমক্ষে তুলে ধরে।