মাঝরাতে বাবুলের পোস্টে হঠাৎ মমতার নাম! ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে’ বার্তায় কী ইঙ্গিত লুকিয়ে?

মাঝরাতে বাবুলের পোস্টে হঠাৎ মমতার নাম! ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে’ বার্তায় কী ইঙ্গিত লুকিয়ে?

দলীয় নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বুধবার মধ্যরাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে করা একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরুতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মন্তব্য করেন।

শুরুতেই কড়া পদক্ষেপের অভাব ও জটিল পরিস্থিতি

তৃণমূল সাংসদ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই যাঁরা দুর্নীতি, জনসাধারণের অর্থ তছরুপ বা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময়ে আরও কড়া পদক্ষেপ করলে বর্তমান পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। বাবুলের মতে, যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, তৎকালীন বহু বিতর্কিত ব্যক্তি এখন তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ হয়েছেন, যাদের কেউ নির্বাচনে হেরেছেন আবার কেউ বর্তমানে কারাগারে বন্দি। তবে ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার করেননি।

পদত্যাগ বিতর্ক ও ছদ্মবেশী সাপের জল্পনা

রাজনৈতিক অবস্থান বদলের প্রশ্নে দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের কড়া সমালোচনা করেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি জানান, দলের প্রতীক ও সংগঠনের জোরে নির্বাচিত হওয়ার পর দল ছাড়লে নৈতিকতার খাতিরে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত। এই প্রসঙ্গে নিজের বিজেপি ছাড়ার ও সাংসদ পদ ত্যাগের উদাহরণও টানেন তিনি। তবে তাঁর পোস্টের সবচেয়ে রহস্যময় অংশ ছিল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য। বাবুল লেখেন, একজন ব্যক্তি তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছেন এবং তিনি ভাবতেও পারেননি যে ‘একজন সাপ মানুষের ছদ্মবেশে’ তাঁদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই রহস্যময় ব্যক্তিটি কে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

পোস্টের শেষ দিকে বাবুল নিজের পুরনো দল বিজেপিকেও পরোক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, অন্য দল ভাঙিয়ে নেতা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। যদিও পুরো বক্তব্যটিকে তিনি ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে দাবি করেছেন, তবুও খোদ তৃণমূলের এক সাংসদের মুখে দলনেত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন প্রকাশ্য সমালোচনা শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *