আশার আলো পশ্চিম এশিয়ায়, ট্রাম্পের চাপে শেষ পর্যন্ত পিছু হটল ইজরায়েল!

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে একটি আপাত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় টানা দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের ম্যারাথন বৈঠক শেষে এই সমঝোতায় পৌঁছায় উভয় পক্ষ। ওয়াশিংটনের তৈরি করা শর্তসাপেক্ষ এই রফাসূত্রের হাত ধরে অশান্ত পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আপাত শান্তি মিললেও তেল আভিভ বেইরুটের সামনে বেশ কিছু কঠিন শর্ত রাখায় এই চুক্তির স্থায়ীত্ব নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ভর্ৎসনা ও নেপথ্য কারণ
এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আমেরিকার প্রবল কূটনৈতিক চাপ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই লক্ষ্য অর্জনে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং হামলা বন্ধের জন্য সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেন। মূলত মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়েছে ইজরায়েল।
শর্তের বেড়াজাল ও ভবিষ্যতের প্রভাব
এই চুক্তির ফলে সাময়িকভাবে রকেট হামলা ও বোমাবর্ষণ বন্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি বজায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইজরায়েল এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার বিনিময়ে লেবানন ও বৈরুত প্রশাসনের সামনে বেশ কিছু কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তগুলো লেবানন কতটা মেনে চলবে, তার ওপরই নির্ভর করছে চুক্তির ভবিষ্যৎ। যদি শর্ত লঙ্ঘনের অজুহাতে ইজরায়েল আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আগের চেয়েও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। আপাতত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেলেও এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।