জমি জট কাটল না তাজপুরে, বন্দর গড়তে বিকল্প পথেই হাঁটছে শুভেন্দু সরকার

তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নিয়ে এক বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে তাজপুর বন্দর নিয়ে বিস্তর ঢাকঢোল পেটানো হলেও, আদতে রাজ্য সরকারের হাতে সেখানে কোনো জমিই নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাজপুরে মূল প্রস্তাবিত স্থানে বন্দর গড়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই পরিস্থিতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বিকল্প পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে নতুন সরকার।
জমি সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ল তাজপুর প্রকল্প
২০২২ সালে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট (এলওআই) দিয়েছিল। প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সেই টেন্ডার বাতিল করে তৎকালীন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পর আধিকারিকদের মূল্যায়নে দেখা গেছে, তাজপুরে রেল ও জাতীয় সড়কের সংযোগ বা ওয়্যারহাউস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় হাজার হাজার একর সরকারি জমি সেখানে উপলব্ধ নেই। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও জমির অভাবেই মূলত আদানি গোষ্ঠী এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
শিল্পের স্বার্থে ১০ কিমি দূরে বিকল্প ভাবনা
তাজপুরে বন্দর গড়া আসাম্ভব হলেও রাজ্যকে আশাহত করতে রাজী নয় বর্তমান প্রশাসন। বুধবার আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পরই বিকল্প পথ বাতলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়ে অবস্থিত একটি পুরনো নুন কারখানার ১৭০০ একর জমি সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ১৭০০ একর জমিকে কেন্দ্র করেই বন্দর ও শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
উন্নয়নে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রয়াস
এই নতুন বিকল্প প্রকল্পটিকে বাস্তবায়িত করতে ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে শুভেন্দু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দাদনপাত্রবাড়ের জমিতে বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে রেভিনিউ শেয়ারিং বা রাজস্ব ভাগাভাগির মডেলেও রাজ্য রাজী রয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই সমুদ্র বন্দর রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন পূর্ববর্তী সরকারের জমি জটের জটলা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে, তেমনই আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পথও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।