তৃণমূলের অবশিষ্ট অংশও শেষ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেসের দরজা খুলে দিলেন অধীর

তৃণমূলের অবশিষ্ট অংশও শেষ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেসের দরজা খুলে দিলেন অধীর

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল ধরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদের এক কর্মসূচি থেকে সরাসরি তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকদের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার খোলা আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। একদা যে জেলায় কংগ্রেসকে ভেঙে তৃণমূল নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছিল, সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অবশিষ্ট শক্তিকে নিঃশেষ করার কৌশল নিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। এর ফলে মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

তৃণমূলের অন্দরে গভীর অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

অধীর চৌধুরীর দাবি, তৃণমূলের অন্দরে বর্তমানে তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতার অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েন চলায় নীচু তলার সাধারণ কর্মীরা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। অতীতে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজ্যে তৃণমূলের উত্থান হলেও, পরবর্তীতে কংগ্রেস ভাঙিয়ে দলটিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করার নীতি নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি মুর্শিদাবাদে অধীর-ঘনিষ্ঠ বহু নেতাকে নিজেদের শিবিরে টেনে নিয়েছিল তৃণমূল। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল মাত্র ৯টিতে জয়ী হয়, যার মধ্যে ৮ জন বিধায়কই আবার দলনেত্রীর সঙ্গ ছেড়েছেন। এই সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এবার ক্ষুব্ধ ও উপেক্ষিত ঘাসফুল কর্মীদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন অধীর।

রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তিকে পুঁজি করে এই রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ডাক দেওয়া হয়েছে। অধীর চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করতে ইচ্ছুক তৃণমূলের হতাশ কর্মীদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সর্বদা খোলা এবং ইতিমধ্যেই অনেকে যোগাযোগ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীরের এই প্রকাশ্য আহ্বান জেলা স্তরে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নড়বড়ে করে দিতে পারে। নীচু তলার কর্মীদের এই সম্ভাব্য দলবদল আগামী দিনে মুর্শিদাবাদ সহ সমগ্র রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন এবং নতুন রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *