পুজোর আগেই ভোলবদল গঙ্গার ঐতিহাসিক ঘাটগুলির, সেজে উঠছে কলকাতা ও হাওড়া

পুজোর আগেই ভোলবদল গঙ্গার ঐতিহাসিক ঘাটগুলির, সেজে উঠছে কলকাতা ও হাওড়া

কলকাতার ঐতিহাসিক গঙ্গার ঘাটগুলির আধুনিকীকরণ এবং রাজ্যের জলপথ পরিবহনে এক বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, কলকাতার শহুরে আধুনিকীকরণের সাথে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মিলিয়ে এক মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জলপথের বাণিজ্য ও পরিবহনকে আরও গতিশীল করতে পরিবহন দপ্তর থেকে ‘শিপিং’ বা জাহাজ চলাচল বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার।

মেগা পরিকল্পনায় ৭টি ঐতিহাসিক ঘাট

কলকাতা ও হাওড়ার মোট ৭টি ঐতিহাসিক ঘাটের আমূল সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে। এই ঘাটগুলির পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেব এবং শ্রী শ্রী সারদা দেবীর স্মৃতিবিজড়িত এই ঘাটগুলির সংস্কার করার সময় তাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে, কোনোভাবেই ঐতিহ্যে আঘাত করা হবে না। পুনর্নির্মাণের তালিকায় থাকা ঘাটগুলি হলো কলকাতার বাগবাজার, আহিরিটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট ও বাবুঘাট এবং হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট ও বান্দা ঘাট।

দুর্গাপুজোর আগেই শেষ করার কড়া ডেডলাইন

প্রকল্পের অগ্রগতি অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ঘাটগুলির মধ্যে দুটি ঘাটের কাজ প্রায় শেষের মুখে। বাকি ঘাটগুলির কাজ আগামী দুর্গাপুজোর আগেই শেষ করার কড়া সময়সীমা বা ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকীকরণের ফলে কলকাতার পর্যটন ও সংস্কৃতি যেমন এক নতুন মাত্রা পাবে, তেমনই উৎসবের মরশুমে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। জাহাজ চলাচল বিভাগকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত রাজ্যের জলপথ বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *