রান্নাঘরের অজান্তে চড়া বারুদের স্তূপ, অবহেলার দিতে হতে পারে চড়া মাশুল

রান্নাঘরের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অনেকেই সচেষ্ট হলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রায়শই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর একই এলপিজি গ্যাসের পাইপ ও রেগুলেটর ব্যবহার করার প্রবণতা দেশের বহু গৃহস্থালিতেই সাধারণ চিত্র। অথচ অধিকাংশ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে মূল সিলিন্ডার দায়ী থাকে না; বরং রেগুলেটর ও পাইপের ত্রুটিই মূল বিপর্যয় ডেকে আনে। সামান্য অলসতা ও উদাসীনতা যেকোনো মুহূর্তে একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ছাই করে দিতে পারে।
ঝুঁকির উৎস ও নেপথ্য কারণ
গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি অত্যন্ত উচ্চ চাপে মজুত থাকে। ইন্ডিয়ান, ভারত পেট্রোলিয়াম বা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থাগুলোর মতে, প্রতিটি রান্নাঘরে অন্তত ২ থেকে ৩ বছর পর পর গ্যাসের পাইপ বদলে ফেলা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে রান্নাঘরের তেল, কালি, মশলা এবং ধুলো-ময়লার পুরু আস্তরণ পাইপের ওপর জমা হয়। এর ফলে পাইপের ভেতরের সূক্ষ্ম ফাটল বা লিক খালি চোখে ধরা পড়ে না। এছাড়া রান্নাঘরে ইঁদুরের উপদ্রব থাকলে পাইপ কেটে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। নিম্নমানের বা সস্তা প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার এবং পাইপের দৈর্ঘ্য দেড় মিটারের বেশি হওয়াও দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
ভয়ানক প্রভাব ও করণীয়
পাইপ বা রেগুলেটরে সামান্যতম লিক হলে উচ্চ চাপের গ্যাস দ্রুত ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় দেশলাই জ্বালানো তো দূর, একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক সুইচের স্পার্ক কিংবা মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশন থেকেও মুহূর্তের মধ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এই মারাত্মক বিপর্যয় এড়াতে প্রতিদিন রান্নার আগে ও রাতে ঘুমানোর আগে পাইপ ও রেগুলেটর পরীক্ষা করা জরুরি। পাইপে অতিরিক্ত তেল-কালি জমতে দেওয়া যাবে না এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে বা দুই বছর পার হয়ে গেলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পরিবর্তন করতে হবে। সামান্য সচেতনতাই পারে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।