চোখের সামনে বন্ধুর অকাল মৃত্যু, সমাজের নীরবতা ভাঙতে এক দশক আগে লড়েছিলেন দীপিকা

চোখের সামনে বন্ধুর অকাল মৃত্যু, সমাজের নীরবতা ভাঙতে এক দশক আগে লড়েছিলেন দীপিকা

২০১৫ সালে বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন যখন টেলিভিশনের পর্দায় নিজের মায়ের পাশে বসে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তখন তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নয়, দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ইতিহাসেও এক যুগান্তকারী অধ্যায় তৈরি করেছিল। একজন শীর্ষসারির তারকা হয়েও সমাজের কুসংস্কার ও সংকোচকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের মানসিক অসুস্থতার কথা স্বীকার করাটা মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি অভিনেত্রীর বাবা, প্রখ্যাত ব্যাডমিন্টন তারকা প্রকাশ পাড়ুকোন মেয়ের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যের আসল কারণ এবং তাঁর গড়ে তোলা সংস্থার দীর্ঘ এক দশকের লড়াইয়ের গল্প প্রকাশ্যে এনেছেন।

উদ্যোগের নেপথ্য কারণ ও অকাল মৃত্যুর আঘাত

প্রকাশ পাড়ুকোন জানান, দীপিকার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অকাল মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। চোখের সামনে বন্ধুর এই আকস্মিক চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই তিনি তীব্রভাবে উপলব্ধি করেন যে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের নীরবতা ভাঙা এবং বড় পরিসরে কাজ করা কতটা জরুরি। সেই তাড়না ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই জন্ম নেয় ‘দ্য লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’। শুরুতে দীপিকার পরিবার তাঁর এই সিদ্ধান্তের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তাঁরা জানতেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীপিকার এই পদক্ষেপ লাখো মানুষের জীবনে আলো আনতে পারে।

সমালোচনার ঝড় ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির এই পথটি দীপিকার জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। তৎকালীন সময়ে এই বিষয়টিকে সমাজে এক প্রকার ট্যাবু বা নিষিদ্ধ আলোচনা হিসেবে দেখা হতো। ফলে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলার পর দীপিকাকে তীব্র সমালোচনা ও নানাবিধ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেকে তাঁর এই সাহসী উদ্যোগকে নিছক ‘প্রচারের কৌশল’ বা পাবলিসিটি স্টান্ট বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। তবে সব ধরণের নেতিবাচকতাকে উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অটল থেকেছেন অভিনেত্রী।

এক দশক পর আজ ভারতের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, দীপিকার সেইদিনের সাহসিকতা ব্যর্থ যায়নি। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল অসংখ্য মানুষকে মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার সাহসই জোগায়নি, বরং দেশের মাটিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। শরীর খারাপের মতো মানসিক অস্বস্তিতেও যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া স্বাভাবিক, এই ধারণাই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *