উচ্ছেদের আতঙ্কে কাঁপছে বইপাড়া, ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কায় ঘুম ছুটেছে কলেজ স্ট্রিটের বিক্রেতাদের

রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে হকার উচ্ছেদ অভিযান। এবার সেই উচ্ছেদের ছায়া এসে পড়েছে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র কলেজ স্ট্রিটে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত আইনি নোটিস আসেনি, তবে প্রশাসনের মৌখিক সতর্ক বার্তাতেই তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বইপাড়ার ছোট ছোট দোকানদার ও কর্মচারীদের মধ্যে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্যবসা করা বিক্রেতারা এখন নিজেদের রুজিরুটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
আকস্মিক সতর্কতা ও জীবিকার সংকট
অভিযানের খবর ছড়াতেই কলেজ স্ট্রিট জুড়ে এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মচারী গরমের ছুটি কাটানো মাঝপথে বন্ধ করে তড়িঘড়ি দোকানে ফিরে এসেছেন শুধু নিজেদের দোকান ও জীবিকাকে আগলে রাখতে। এখানকার বহু বিক্রেতা গত ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিয়ম মেনে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকে (কেএমসি) ভাড়া দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বংশানুক্রমিক ভাবে চলে আসা এই ছোট দোকানগুলোই একেকটি পরিবারের একমাত্র অর্থনৈতিক অবলম্বন। ফলে পুনর্বাসন ছাড়া হঠাত উচ্ছেদ করা হলে এই মানুষগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
ঐতিহ্য রক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী বইবাজার কেবল বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ। এই উচ্ছেদ আশঙ্কার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে প্রতিবাদ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বামপন্থী নেতৃত্ব এই মৌখিক উচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে ‘চক্রান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, রেল হকারদের মতো কলেজ স্ট্রিটের গরিব বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা হলে তারা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। হকার উচ্ছেদ ও ঐতিহ্য রক্ষার এই টানাপোড়েনে আপাতত থমথমে কলেজ স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ।