৩১০০ কোটির ক্লাবে ধুরন্ধর, এবার কি ভাঙবে দঙ্গলের রেকর্ড!

৩১০০ কোটির ক্লাবে ধুরন্ধর, এবার কি ভাঙবে দঙ্গলের রেকর্ড!

হলিউডের সিনেমা ভারতীয় বাজারে নিয়মিত শত-শত কোটি টাকার ব্যবসা করলেও ইংরেজি ভাষাভাষী আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সিনেমার প্রভাব এখনও বেশ সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ ছবির অভাবনীয় বিদেশি সাফল্য বিশ্ব বাজারে ভারতীয় সিনেমার এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩,১০০ কোটি টাকার বেশি আয় করা এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবার জাপানের বাজারে মুক্তি পেতে চলেছে, যা আমির খানের ‘দঙ্গল’ ছবির সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা।

জার্মানির বাজারে ‘ধুরন্ধর’ এক মিলিয়ন ইউরোর বেশি আয় করে চমক দেখিয়েছে। এর পাশাপাশি ফিনল্যান্ড এবং জাপানের মতো ভিন্ন ভাষার বাজারেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা চলছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে সত্যিকারের সাফল্য পেতে হলে বিশ্বমানের প্রোডাকশন ভ্যালুর পাশাপাশি এমন গল্প প্রয়োজন যা সহজেই ভাষার বাধা অতিক্রম করতে পারে। অস্কারজয়ী প্রযোজক গুনীত মঙ্গার মতে, ভারতীয় স্থানীয় গল্পের বিশ্বজুড়ে বিশাল চাহিদা রয়েছে, যার বড় প্রমাণ ‘আরআরআর’ কিংবা ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স’।

দেশের ভেতরের ভাষাগত বিভাজন ও প্যান-ইন্ডিয়া ছবির চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখার আগে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজারের ভাষাগত বিভাজন দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের বিনোদন জগতে ‘প্যান-ইন্ডিয়া’ সিনেমা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হলেও খুব কম ছবিই সত্যিকারের ভাষার সীমানা পেরিয়ে সফল হতে পেরেছে। যেমন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘রাজা শিবাজি’ ছবিটি মারাঠি ভাষার আবেগকে ছুঁতে পারলেও মহারাষ্ট্রের বাইরে সেইভাবে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে ‘ধুরন্ধর’। ছবিটির হিন্দি সংস্করণ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে। দক্ষিণের দর্শকরা যেভাবে সাবটাইটেল সহ হিন্দি ছবি গ্রহণ করছেন, তা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে ভালো কনটেন্ট হলে যে ভাষা কোনও বাধা নয়, তা বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের দক্ষিণী জনপ্রিয়তার মাধ্যমেও প্রমাণিত হচ্ছে।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থায়ী জায়গা করে নিতে ভারতীয় সিনেমা ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। তবে বিশ্ব বাজারের পাশাপাশি দেশের ভেতরেই সব ভাষার দর্শকদের মিলিয়ে একটি একক ও শক্তিশালী দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করাই এখন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *