নিজভূমেই চরম ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প!

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ’-এ পাশ হয়ে গেল যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব। ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে পাশ হওয়া এই প্রস্তাবটিকে হোয়াইট হাউসের জন্য বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির দুই সদস্যও এই প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। এর আগেও ডেমোক্র্যাটদের আনা যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাবে রিপাবলিকানদের একাংশ সমর্থন জানিয়েছিল, যা এবারও ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও একাকীত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
অর্থনৈতিক সংকট ও ঘরের মাঠে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ
ইরানের সাথে এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জেরে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের বিপুল খরচের প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের পকেটে, যা নিয়ে দেশের অন্দরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র হচ্ছিল। খোদ রিপাবলিকান পার্টির একটি বড় অংশ মনে করছে, এই যুদ্ধের ফলে দেশের আর্থিক ও কূটনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। মূলত এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং নাগরিকদের ক্ষোভের কারণেই ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান শিবিরের নেতারাও এখন যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ
নিম্নকক্ষে এই প্রস্তাব পাশ হলেও এখনই ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, কার্যকর করার জন্য প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ‘সেনেট’-এও পাশ হতে হবে। তবে এই ভোটাভুটি ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের ওপর একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের অবৈধ যুদ্ধ বন্ধ করার একটি জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর ফলে আগামী দিনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।