টলিপাড়ায় ধুন্ধুমার, ফেডারেশনের বৈঠকে ইট-ডিমবৃষ্টির নেপথ্যে কারা, বিস্ফোরক রুদ্রনীল

টলিপাড়ায় ধুন্ধুমার, ফেডারেশনের বৈঠকে ইট-ডিমবৃষ্টির নেপথ্যে কারা, বিস্ফোরক রুদ্রনীল

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিও আচমকাই রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। ফেডারেশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই তুমুল অশান্তিতে উত্তাল হয়ে ওঠে স্টুডিওপাড়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই নজিরবিহীন ডামাডোল তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও বিক্ষোভের সূত্রপাত

টলিউডের অন্দরের খবর, ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক মহম্মদ হাসান এবং সহসম্পাদক বাবাইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বরূপ বিশ্বাসের ফেডারেশন যখন প্রায় অবলুপ্তির পথে, ঠিক তখনই সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এই মিটিংকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে ডিম ও ইটবৃষ্টি শুরু করে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় স্টুডিওর ভেতরে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

বহিরাগতদের দায়ী করলেন রুদ্রনীল

এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বহিরাগতদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি জানান, টেকনিশিয়ানদের একটি বড় অংশ তথ্য সংস্কৃতি ভবনে তাঁদের কিছু আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জমা দিতে এসেছিলেন। ঠিক সেই সময়ই কিছু বহিরাগত, যাদের সঙ্গে টলিউডের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা এসে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে আক্রমণকারী ও উপদ্রবকারীদের কাউকেই এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

ইন্ডাস্ট্রির গরিমা ফেরানোর আশ্বাস

পূর্বতন সরকারের আমলে টলিউডের বেহাল দশা হয়েছিল দাবি করে রুদ্রনীল জানান, হারিয়ে যাওয়া গরিমা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকেই বর্তমান সরকারকে নিয়ে আশাবাদী এবং সবাই জানতে চান কোন নিয়মানুবর্তিতা মেনে আগামীদিনে কাজ এগোবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনও রকম ‘ব্যান কালচার’ বা নিষেধাজ্ঞা সংস্কৃতিকে সমর্থন করা হবে না। শুটিংয়ের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিল্পী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তথ্য সংস্কৃতি ভবন এবং মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *