বাতাসে বিষ ঠেকাতে নবান্নের বড় পদক্ষেপ, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রোপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি চারাগাছ!

বাতাসে বিষ ঠেকাতে নবান্নের বড় পদক্ষেপ, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রোপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি চারাগাছ!

ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের গ্রাস থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে এক বিশাল সবুজায়নের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৪ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশব্যাপী চালু করা ‘এক পেড় মাকে নাম’ অর্থাৎ ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ মহৎ প্রকল্পকে এবার রাজ্য স্তরে রূপায়ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিধাননগরের একটি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হতে চলেছে। এই প্রকল্পের আওতায় সমগ্র রাজ্য জুড়ে প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে নবান্ন।

তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে বিধায়কদের বিশেষ দায়িত্ব

পরিবেশ রক্ষার এই মহৎ আন্দোলনকে সফল করতে রাজ্য প্রশাসন একটি সুনির্দিষ্ট ও বিকেন্দ্রীকৃত রূপরেখা প্রস্তুত করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চারাগাছ বিতরণ ও রোপনের কাজ একযোগে শুরু হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপন করা হবে। এছাড়া ব্লক স্তরে ১০০টি, পুরসভা স্তরে ২০০টি এবং বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় প্রত্যেক বিধায়ককে নিজ দায়িত্বে ১ হাজার করে চারাগাছ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ সমন্বয় টিম গঠন করেছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ৫ জুন শুরু হয়ে এই ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

পরিবেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্দেশ্য

শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের ফলে বাতাসে ক্রমাগত ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক কোটি দশ লক্ষ চারাগাছ রোপনের এই সরকারি সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের সবুজায়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপনের ফলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা হ্রাস পাবে এবং অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় থাকবে, যা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে। প্রশাসনের পাশাপাশি এই অভিযানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট নাগরিকসহ সাধারণ মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *