মালদায় মদের ঠেকে মায়েদের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পুলিশকে ছাড়াই বেআইনি কারবার গুঁড়িয়ে দিলেন ক্ষিপ্ত মহিলারা

মালদায় মদের ঠেকে মায়েদের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পুলিশকে ছাড়াই বেআইনি কারবার গুঁড়িয়ে দিলেন ক্ষিপ্ত মহিলারা

এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি মদের আসর, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল গাঁজার রমরমা কারবার। পুলিশ-প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আইন নিজেদের হাতে তুলে নিলেন এলাকার মহিলারা। মালদার ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের নুনবহি এলাকায় একদল ক্ষিপ্ত মহিলার অতর্কিত অভিযানে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। বেআইনি মদের ঠেকে ঢুকে মদের বোতল ও গ্লাস ভাঙচুর করার পাশাপাশি তুমুল তাণ্ডব চালান মহিলারা। তাঁদের এমন রণংদেহী মূর্তি দেখে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিতে বাধ্য হয় মূল তিন বেআইনি মদ কারবারি ও মদ্যপেরা।

ক্ষোভের কারণ ও পুলিশের ভূমিকা

বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, নুনবহি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বেআইনি মদের ঠেক চালানো হচ্ছিল। এই বিষয়ে স্থানীয় ইংরেজবাজার থানায় একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ মাঝেমধ্যে রাতে এলাকায় লোকদেখানো টহল দিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ চলে গেলেই ফের প্রকাশ্যে মদের দোকান খুলে বসে কারবারিরা। পুলিশকে সব জানিয়েও যখন লাভ হয়নি, তখন নিজেদের পরিবার আর সমাজ বাঁচাতে মহিলারা লাঠি হাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন।

সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিনতি

এই অবৈধ মদের ঠেকের কারণে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ লাগামহীনভাবে বেড়ে গিয়েছে। বাড়ির ঢিলছোঁড়া দূরত্বে মদের আসর বসায় এলাকার স্কুলছুট কিশোর এবং যুবকদের একাংশ মারাত্মকভাবে নেশার কবলে পড়ে যাচ্ছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশ। এছাড়া এলাকার অধিকাংশ দিনমজুর পুরুষ তাঁদের উপার্জনের সিংহভাগ টাকা এই মদের ঠেকে উড়িয়ে দেওয়ায় পরিবারগুলোতে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছিল। এই ঘটনার পর নুনবহি এলাকায় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় এবং উত্তেজিত মহিলাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। এলাকা থেকে বেআইনি মদের ঠেক পুরোপুরি উপড়ে ফেলা এবং চিহ্নিত মদের কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *