মমতাকে রেজিনগর থেকে বিধানসভায় পাঠানোর বড় অফার হুমায়ুনের, ছাব্বিশের ধাক্কার পরেই ভোলবদল দলছুট নেতার

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক সময়ের পরম শত্রু এবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যে নেতা কিছুদিন আগেই তৃণমূল সরকারের উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন, তিনিই এখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিজের বিধানসভা আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গড় ভবানীপুরে পরাজিত হওয়ার পর দলের পরিস্থিতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন তৈরি করেছে।
সমবেদনা নাকি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক ইঙ্গিত
গত বছরের শেষদিকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজস্ব দল গঠন করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তৎকালীন শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর তাঁর সুর সম্পূর্ণ নরম। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে কার্যত কোনো ক্ষমতা নেই, এমনকি পরিষদীয় দলের রাশও তাঁর হাতছাড়া। এই সংকটময় মুহূর্তে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন যে নেত্রীর এই অবস্থা দেখে তাঁর খারাপ লাগছে। তিনি মমতাকে গুরুদক্ষিণা দিতে চান এবং নেত্রী চাইলে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত, যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখান থেকে জিতে পুনরায় বিধানসভায় যেতে পারেন। তবে এই সহানুভূতির আড়ালে “রেজিনগরে হুমায়ুনই শেষ কথা” বলে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্যের জানান দিতেও ছাড়েননি তিনি।
পরিবর্তনের হাওয়া ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর কৌশল। তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর যখন দলের অনেক প্রথম সারির নেতাই দূরত্ব বজায় রাখছেন, তখন হুমায়ুনের এই অগ্রণী ভূমিকা মুর্শিদাবাদ তথা রেজিনগর এলাকায় তাঁর সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ও রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করার একটি চেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম বা নিজের পুরোনো আসন থেকে আর সহজে জিতে আসতে পারবেন না দাবি করে হুমায়ুন প্রকারান্তরে তৃণমূল সুপ্রিমোর বর্তমান দুর্বল অবস্থানকেই তুলে ধরেছেন। এই প্রস্তাবের পর ভাঙন ধরা তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি হয় কি না, অথবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সহযোগিতার হাত গ্রহণ করেন কি না, সেটাই এখন দেখার।