খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং! মন্দির সংলগ্ন নামী বিরিয়ানি দোকান বন্ধের নির্দেশ

খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং! মন্দির সংলগ্ন নামী বিরিয়ানি দোকান বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহরে এবার বিরিয়ানির প্লেটে বিষাক্ত রাসায়নিক রঙের হদিস! শহরের শিব মন্দির সংলগ্ন এলাকার একটি নামী বিরিয়ানি দোকানে আকস্মিক হানা দিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নিষিদ্ধ রাসায়নিক রঙের বোতল উদ্ধার করল জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই মারাত্মক খামখেয়ালিপনার জেরে ওই দোকানটি আগামী সাত দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকেরা।

ফুড ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে হানা ও নমুনা সংগ্রহ

জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর ফুড ইনস্পেক্টর সুমন জানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার ওই বিরিয়ানি দোকানে অতর্কিত অভিযান চালায়। দোকানে ঢুকেই আধিকারিকেরা দেখতে পান যে, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় খাবারে ব্যবহারের জন্য রাখা নিষিদ্ধ রাসায়নিক রঙের একাধিক বোতল, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ওই দোকান থেকে চাল এবং মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন আধিকারিকেরা।

বিধায়কের কড়া হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ঝাড়গ্রাম শহরের খাদ্যপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাড়গ্রামের স্থানীয় বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রকম বেনিয়ম বা খেলা বরদাস্ত করা হবে না। রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলিতে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে আগামী দিনে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে এই ধরনের সস্তা ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ব্যবহারের ফলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকিও বহুলাংশে বেড়ে যায়। ঝাড়গ্রামের এই ঘটনার পর শহরের অন্যান্য ছোট-বড় খাবার দোকান ও রেস্তোরাঁগুলির ওপর নজরদারি আরও কড়া করবে প্রশাসন, যার ফলে হোটেল মালিকেরা খাবারের গুণগত মান নিয়ে সচেতন হতে বাধ্য হবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *